কনডম ব্যবহার কি জায়েজ!

প্রায় ৪০০ বছর আগ থেকে কনডম ব্যবহৃত হচ্ছে বলে ইতিহাস পাওয়া যায়। গুণমান ও প্রক্রিয়ায় ভিন্নতা থাকলেও মানুষ কনডমের ধারণা লালল করে আসছে সেই আধিকাল থেকেই।

আধুনিককালে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও বিশ্ব বিস্তৃত প্রচার মাধ্যমের কারণে কনডমের পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা বাড়ছে প্রতিনিয়ত। প্রতিদিন কি পরিমাণ কনডম ব্যবহৃত হচ্ছে তা সঠিকভাবে বলা মুশকিল হলেও সেই সংখ্যাটা যে বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে তা নিশ্চিত করে বলা যায়।

আর কনডম ব্যবহারকারীদের বিশাল একটি অংশ যেহেতু মুসলিম। তাই স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জন্ম নিচ্ছে – ইসলাম কি কনডম ব্যবহারে অনুমোদন দেয়? বা কনডম ব্যবহার কি জায়েজ? মূলত এটি একটি সাময়িক জন্ম বিরতিকরণ প্রক্রিয়া। এটা আযলের সঙ্গে সাদৃশ্য রাখে। আর আযল বৈধ ও জায়েজ। তাই কনডম ব্যবহারও জায়েজ।

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম – ‘র যুগে আযল করতাম। অতপর এই খবর রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম – এর কাছে পৌঁছলে তিনি এটা থেকে নিষেধ করেননি। (সহিহ বুখারি – ২৫০ )

অন্য হাদিসে জাবির (রা.) বর্ণনা করেন, একজন ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বললো আমার একটি বাদী আছে। আমি তার সঙ্গে সহবাস করি। কিন্তু সে গর্ভবতী হোক সেটা আমি পছন্দ করি না।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন তুমি চাইলে তার সঙ্গে আযল করতে পারো। কেননা আযল করার পরও তার ভাগ্যে যা নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে সেটা আসবেই। (সহিহ মুসলিম ২৬০৬ )

আবু সাইদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন- নবি মুস্তালিক যুদ্ধে আমরা রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম – ‘র সাথে বের হলাম। সেখানে আমরা আরবীয় দাসীদের মধ্যে থেকে অনেক দাসীকে বন্দী করলাম। আমরা নারী সংঙ্গ চাচ্ছিলাম।

কিন্তু আমাদের স্ত্রীদের থেকে দীর্ঘ দূরত্ব কঠিন সংকটে ফেলে দিয়েছিলো। তাই আমরা (দাসীদের সাথে) আযল করার প্রতি আগ্রহী হয়ে গেলাম।

আমরা বললাম রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে আমাদের মধ্যে উপস্থিত রেখে আমরা আযলে লিপ্ত হবো। অথচ তাকে জিজ্ঞেস করবো না, এটা হতে পারে না। এরপর আমরা তাকে সে সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন তোমরা এটা করতে অসুবিধা নেই। কেননা আল্লাহ তায়ালা কিয়ামত পর্যন্ত যতো মানুষ সৃষ্টি করার তা করবেনই। (সহিহ বুখারি – ৩৮২৩)

এই তিনটি হাদিসই আযল জায়েজ হওয়া পক্ষ শক্তিশালী প্রমাণ। আর কনডম যেহেতু আযলের মতোই একটি সাময়িক প্রক্রিয়া তাই এই হাদিসগুলোর ভিত্তিতে কন্ডম ব্যবহারও জায়েজ প্রমাণিত হয়।

তবে আযল জায়েজ হওয়ার ক্ষেত্রে স্ত্রীর সস্মিত শর্ত। তাই কন্ডম ব্যবহার বৈধ হওয়ার ক্ষেত্রেও স্ত্রীর সম্মিত থাকতে হবে।

কেননা সহবাসের মাধ্যমে যে আনন্দলাভ হয় সেটা উপভোগের ক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রী উভয় সমানভাবে অংশীদার। তাই স্বামীর একক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে স্ত্রীকে উপভোগ থেকে বঞ্চিত করা কাম্য নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.