কবিতায় প্রেয়, বিয়ের দেনমোহর বই

কবিতা পড়ে নিখিলের প্রতি ভালোলাগা তৈরি হয় সান্ত্বনার। ভালোলাগা থেকে ভালোবাসা। তারপর বিয়ের আয়োজন। শুক্রবার বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন এই যুগল। বিয়েতে দেনমোহর হিসেবে কোনো টাকা বা গয়না নয়, দেওয়া হচ্ছে ১০১টি বই। 

এমনই এক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে যাচ্ছেন বগুড়ার নিখিল নওশাদ ও সান্ত্বনা খাতুন।

এরই মধ্যে হবু বধূর দেয়া তালিকা অনুসারে দেনমোহরের ৭০টি বই কিনেছেন নিখিল। বাকি ৩১টি বই শিগগিরই কিনবেন বলে জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার তারা বই কিনতে আসেন বগুড়া শহরের পড়ুয়া নামের বইয়ের দোকানে। পড়ুয়া কর্তৃপক্ষ এই বিষয়টি ফেসবুকে শেয়ার করে।

বগুড়ার ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি ইউনিয়নের সাতরাস্তা গ্রামের বাসিন্দা নিখিল নওশাদ। তিনি বিরোধ নামের একটি লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদক। বেসরকারি একটি কোম্পানির বিক্রয় কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত নিখিল।

এক দশক ধরে লেখালেখি করছেন নিখিল। সেই সূত্র ধরেই প্রায় ৯ মাস আগে বগুড়া শহরের উত্তর চেলোপাড়া দাখিল মাদরাসার ইংরেজির শিক্ষক সান্ত্বনা খাতুনের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। পরে নিখিলের লেখা কবিতার প্রেমে পড়ে সান্ত্বনা।

সান্ত্বনা বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার কামালেরপাড়া গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের মেয়ে। তারা দুজনই বইপ্রেমী। নিখিল-সান্ত্বনা পড়াশোনা করেছেন বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজে।

শুক্রবার বিয়ে করছেন তারা। ধুনট উপজেলায় তাদের বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। বিয়েতে দেনমোহর হিসেবে ১০১টি পছন্দের বই চেয়েছেন সান্ত্বনা। ঢাকা- বগুড়া ঘুরে সেসব বই কিনছেন নিখিল। এখন পর্যন্ত ৭০টি বই কিনেছেন তিনি। বিয়ের পর আরো ৩১টি বই কিনে স্ত্রীর মোহরানা শোধ করবেন বলে জানিয়েছেন নিখিল।

বিয়ের কনে সান্ত্বনা বলেন, বই পড়তে আমার ভালো লাগে। বইয়ের চেয়ে বড় সম্পদ কিছু নেই। তাই নিখিলের কাছে আমি এই সম্পদটাই চেয়েছি।

নিখিল বলেন, বই আর লেখালেখির সূত্রেই আমাদের পরিচয়, পরে প্রেম। তাই বইকে অন্যতম সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করে আমাদের বিয়েকে স্মরণীয় করে রাখতে যাচ্ছি।

শুক্রবার বিকেলে নিখিল বলেন, বিয়ের সব প্রস্তুতি শেষে। একটু পরেই তাদের বিয়ের কার্যক্রম শুরু হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.