দুদকের মামলায় প্রদীপ ও স্ত্রী চুমকি সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা, রায় বুধবার

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকি কারণের বিরুদ্ধে দুদকের করা মামলার রায় ঘোষণা হবে বুধবার।

মামলায় পাঁচটি ধারায় দুজনের সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করছে দুদকপক্ষ। অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। আসামিরা খালাস পাবেন বলে মনে করছে আসামিপক্ষ।

দুদকের আইনজীবী মাহমুদুল হক মাহমুদ বলেন, প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সব কাগজপত্র আদালতে উপস্থাপন ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ শাস্তি হবে। এছাড়াও প্রদীপের ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্ররোচনার অভিযোগ আমরা আদালতে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংসহ একাধিক অভিযোগ তদন্ত চলমান রয়েছে। পাঁচটি ধারায় আনা অভিযোগের প্রত্যেক ধারায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক এটাই আমরা চাই।

প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকি কারণের আইনজীবী সমীর দাশগুপ্ত বলেন, কক্সবাজারের মহেশখালী থানার সেলিম এলাহীর অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক প্রদীপ ও চুমকির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। সেই সেলিম এলাহীকে মামলায় সাক্ষী করা হলেও তিনি আদালতে সাক্ষ্য দেননি। ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে দুজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে আদালতে জেরা করা হয়। বাকি ২২ জন সাক্ষীর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। তারা মামলা সম্পর্কে অবগত নয়। আমাদের পক্ষে সাফাই সাক্ষীতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়্যারমানকে হাজির করা হয়েছিল।

স্বামী প্রদীপ কুমার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বয়ে বেড়ালেও অবৈধ সম্পদের অংশীদার চুমকি দীর্ঘদিন ধরেই ছিলেন লাপাত্তা। সন্তানদের নিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর পাথরঘাটা এলাকায় ‘লক্ষ্মীকুঞ্জ’ নামে ছয়তলা বাড়িটিতে থাকতেন চুমকি। কিন্তু ২০২০ সালে সিনহা হত্যাকাণ্ডে প্রদীপ গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যান তিনি।

এভাবে দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় আত্মগোপনে থাকার পর গত ২৩ মে দুপুরে দুদকের মামলায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মুন্সী আবদুল মজিদের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন চুমকি। শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

২০২০ সালের ২৩ আগস্ট অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রদীপ ও চুমকির বিরুদ্ধে মামলাটি করেন দুদক কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন। পরে গত বছরের ২৬ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে তাদের বিরুদ্ধে তিন কোটি ৯৫ লাখ পাঁচ হাজার ৬৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়।

একই বছরের ১ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্রের ওপর শুনানি হয়। ২০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিনের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার এজাহারে উল্লিখিত সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেয় আদালত। ১৫ ডিসেম্বর এ মামলায় তাদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়।

এর আগে, প্রদীপের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠায় ২০১৮ সালের জুন মাসে অনুসন্ধান শুরু করেছিল দুদক। প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রদীপ ও চুমকির নামে অস্বাভাবিক সম্পদের তথ্যও পান দুদক কর্মকর্তারা। এরপর সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য বলা হলে একই বছরের মে মাসে দুদকে বিবরণী জমা দেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.