শিগগিরই ছাত্রলীগের কমিটি

নিউজ ডেস্ক:: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে সম্মেলনের ১১ মাস পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি পেতে যাচ্ছে ছাত্রলীগ। দু-একদিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে ৩০১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির। ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত খসড়া তালিকা প্রণয়ন শেষ হয়েছে। দায়িত্বশীল সূত্র খোলা কাগজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ বিবাদে দীর্ঘদিন আটকে থাকা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয় গত ১৫ এপ্রিল। কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বর্তমান এবং সাবেক নেতাদের বিবাদ নিয়ে ওইদিন অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিবাদ মিটিয়ে দ্রুত কমিটি করতে দায়িত্ব দেন আওয়ামী লীগের চার নেতাকে।

দায়িত্ব পেয়েই আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম ও বিএম মোজাম্মেল হক ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা বসে চূড়ান্ত তালিকা করেন।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান খোলা কাগজকে বলেন, ‘আমরা সবার সঙ্গে বসে চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করেছি। এখন প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষায় আছি। খুব শিগগির কমিটি প্রকাশ হবে।’

গেল বছরের ১১-১২ মে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের আড়াই মাস পর (৩১ জুলাই) রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি এবং গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। দায়িত্ব পাওয়ার ৯ মাস পেরুতে চললেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি উপহার দিতে পারেনি শীর্ষ দুই নেতা। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে সঙ্গে এ ইউনিটগুলোও চলছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ছাড়া।

ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, ছাত্রলীগের বিদায়ী কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইনের অনুসারীদের বাদ দিয়ে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে তৎপরতা চালায় বর্তমান সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ হলের নেতারা সোহাগ-জাকিরের অনুসারী হওয়ায় এ তৎপরতা ভেস্তে যায়। একাধিকবার নিজেদের অনুসারীদের নিয়ে করা কমিটি অনুমোদন করাতে চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন তারা। কমিটি গঠন নিয়ে হল নেতাদের তোপের মুখেও পড়েন সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। সবশেষ ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু নির্বাচনে প্যানেল দেওয়া নিয়ে সাবেক-বর্তমান নেতাদের অনুসারীদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। বিদ্রোহী গ্রুপ প্যানেল ঘোষণাও করে। যদিও নির্বাচনের আগেই প্যানেল প্রত্যাহার করে নেয় তারা।

ডাকসু নেতা এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ প্রত্যাশী একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে খোলা কাগজকে বলেন, বর্তমান নেতাদের ইচ্ছামতো কমিটি করতেই কালক্ষেপণ। তবে শেষ অবধি সব পক্ষকে নিয়েই পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে হস্তক্ষেপ করেছেন নেত্রী। আশা করছি ভালো একটা কমিটি পাব।

পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন খোলা কাগজকে বলেন, সবার সঙ্গে আলোচনা করেই পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে কোনো কিছুই চূড়ান্ত না, বঙ্গবন্ধু কন্যার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

শেয়ার করুন !

Daily Vorer Teknaf

সুন্দর আগামী বিনিমার্ণে একটি অঙ্গীকারবদ্ধ সংবাদ মাধ্যম...

error: Content is protected !!