সিনেমা ছাড়লে আমার পেশা হবে ব্যবসা: মাহি

ভোরের টেকনাফ ডেস্ক::

বাংলা চলচ্চিত্রের ‘অগ্নিকন্যা’ মাহিয়া মাহি। একাধিক ব্যবসা সফল ছবির নায়িকা তিনি। রোমান্টিক, অ্যাকশন, কমেডি, গ্রামীণ, শহুরে যেখানে যেমন, মাহি সেখানে তেমন আকার ধারণ করতে পারেন! নিজের অভিনয় নৈপুণ্যে মাহি কয়েক বছরে নিজেকে নিয়ে গেছেন শীর্ষ নায়িকাদের কাতারে। সাম্প্রতিক ব্যস্ততা নিয়ে সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে এই নায়িকা কথা বললেন চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে…

কোথায় আছেন, কেমন আছেন?
খুব একটা ভালো নেই। ঠাণ্ডা লেগেছে। গত দু’দিন ধরে জ্বর। এজন্য ঢাকায় বাসাতে আছি। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছি।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের পরিচালনায় সাইমনের সঙ্গে ‘মনের দুয়ার’ নামে নতুন ছবি করতে যাচ্ছেন?
কই, না তো! আমি জানি না। আপাতত নতুন কোনো সিনেমায় সাইন করিনি, তাই খবর দিতে পারছিনা।

সিনেমায় আপনার ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে না কেন?
খুব ভালো মানের ছবি না পেলে ব্যস্ত হবো না। যেনতেন ছবি করলে তো বছরে ১০টি ছবি করতে পারি। কিন্তু ওগুলো করে এখন আর লাভ নেই। করলে বছরে একটা ছবি করবো, সেটা খুব ভালো প্রজেক্ট হতে হবে। আমি ভালো কাজের অপেক্ষায় আছি।

তাহলে সময় কাটছে কীভাবে?
আমার এখন দুটো কাজ। সিনেমা আর ব্যবসা সালমালো। সিনেমার শুটিং না থাকলে পুরোটা সময় আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘ভারা’-তে সময় দেই। এটা একটা অনলাইন শপ। এখানে মেয়েদের সবকিছুই পাওয়া যায়। উত্তরা ১২ নাম্বার সেক্টরে ছোট্ট একটা অফিস আছে ‘ভারা’র। অনলাইনে অর্ডার এলে বিক্রিবাট্টা সেখান থেকেই চলে।

ব্যবসা কেমন যাচ্ছে?
মাত্রই তো শুরু করলাম। পাঁচ মাসের মতো হলো। পোশাকের ডিজাইনগুলো আমি করি। তারপর এখান থেকে ওই ডিজাইনে গার্মেন্টস থেকে বানানো হয়। শুধু পোশাক না, নারীদের যতো প্রসাধনী সবকিছুই এখানে পাওয়া যায়। আলহামদুলিল্লাহ ব্যবসা খুব ভালো চলছে। আমি আমার ব্যক্তিগত ফেসবুকে এসব নিয়ে পোস্ট না দিলেও ভারা’র অফিসিয়াল একটা পেজ আছে। সেখানেই আপডেট দেই।

ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ‘ভারা’ নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
আমি যখন সিনেমা থেকে চলে যাবো, তখন ভারা নিয়েই থাকবো। এই প্রতিষ্ঠানটি বড় করবো। বিভিন্ন জায়গায় শো-রুম চালু করবো। মানে সিনেমা ছাড়লে আমার পেশা হবে ব্যবসা।

আপনার অভিনীত ‘জান্নাত’ ছবি দিয়ে পরিচালক, নায়ক, চিত্রনাট্যকার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেল। আপনি পেলেন না, খারাপ লেগেছে?
হাহাহা… একদমই খারাপ লাগেনি। কারণ, অ্যাওয়ার্ড নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। যারা পেয়েছে তারা ভালো করেছে বলেই পেয়েছে। আমিও যদি ভালো অভিনয় করতাম তাহলে আমিও পেতাম!

চলতি বছর আপনার ‘অন্ধকার জগত’ এবং ‘অবতার’ দুই ছবি মুক্তি পেলেও সাফল্য পায়নি…!

সিনেমা ব্যর্থ হবে নাকি সফল হবে এই গ্যারান্টি কেউ দিতে পারেনা। যেখানে যেমনভাবে আমাকে ব্যবহার করা হয়েছে আমি সেভাবেই কাজ করেছি। আর কোনো শিল্পীই চায় না, তার ছবি ব্যর্থ হোক। আমার চেয়ে বড় বড় স্টারদের ছবিও চলেনি। এ দোষ শুধু একার শিল্পীদের নয়। আমি চেষ্টা করেছি আমার দিক থেকে। ছবিতে শুধু আমি একা নই, অন্য যারা কাজ করে তাদের উপর অনেককিছু নির্ভর করে। আর সিনেমা হলের পরিবেশ ভালো না, সেকারণে মানুষ তো হলেই যেতে চান না। অনেক জেলায় সিনেমা হল নেই, কিন্তু দর্শক আছে। হল সংস্কার করে ওইসব এলাকায় ছবি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করলে ছবির ব্যবসা আরও ইতিবাচক হবে।

২০২০ সালে আপনার পরিকল্পনা কী? ২০১৯ সালও আমার কাছে ভালো গেছে। কারণ এ বছর আমি আমার নিজের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান দাঁড় করিয়েছি। এছাড়া এ বছর আমার ‘জান্নাত’ ছবির মাধ্যমে অনেকেই জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে। সবমিলিয়ে ভালো গেছে। আর আগামী বছর আমার শয়নে স্বপনে শুধুই সিনেমা। ব্যক্তিগত এবং কাজ এ দুটোই আমার সিনেমা ঘিরে। তাই আমি খুব ভালো সিনেমার অপেক্ষা আছি। আশা করছি, ২০২০ সালে মনের মতো ভালো মানের সিনেমা করতে পারবো।


📕সংবাদটি লাইক এবং শেয়ার করুন।

শেয়ার করুন !

Daily Vorer Teknaf

সুন্দর আগামী বিনিমার্ণে একটি অঙ্গীকারবদ্ধ সংবাদ মাধ্যম। দৈনিক ভোরের টেকনাফ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *