আবারো বিপিএম পদক পেলেন পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেন

ভোরের টেকনাফ ডেস্ক::

সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ অবদান, দৃষ্টান্তমূলক সেবার স্বীকৃতি স্বরূপ কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.বি.এম মাসুদ হোসেন (বিপি :৭৫০৫১০৫০৭৯) বিপিএম আবারো বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক বিপিএম (বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল) পদক পেয়েছেন। “মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার” এ প্রতিপাদ্য নিয়ে রোববার ৫ জানুয়ারি সকালে ৫-১০ জানুয়ারি জাতীয় পুলিশ সাপ্তাহ ২০২০ এর প্রথম দিনে ঢাকা রাজারবাগ পুলিশ সদর দপ্তরের প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.বি.এম মাসুদ হোসেন বিপিএম সহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এই পদক প্রাপ্ত ১১৮ জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদক প্রদান ও ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ কৃতিত্বপূর্ণ পদক প্রাপ্তির মাধ্যমে এ.বি.এম মাসুদ হোসেন বিপিএম তাঁর নামের শেষে (বার) শব্দটি লিখবেন। অর্থাৎ ‘বার’ শব্দটির মাধ্যমে একাধিকবার এই বিপিএম পদক পেয়েছেন বুঝানো হবে।

বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে একমাত্র কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.বি.এম মাসুদ হোসেন বিপিএম এই রাষ্ট্রীয় পদকের জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন। বাকী ৬৩ জেলার কোন এসপি এবার বিপিএম কিংবা পিপিএম পদকের জন্য মনোনীত হননি। ৬৪ জেলার এসপি’দের একমাত্র প্রতিনিধি যেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.বি.এম মাসুদ হোসেন বিপিএম।
অপরাধ দমনে পুলিশিং অপারেশনে ব্যাপক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বিপিএম সেবা ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য পুলিশ সুপার এ.বি.এম মাসুদ হোসেন বিপিএম-কে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই জাতীয় পুরস্কার পেলেন।

পদক প্রাপ্তরা রাষ্ট্রীয় অর্থ সুবিধা এবং প্রাপ্ত উপাধি নিজ নিজ নামের শেষে ব্যবহার করতে পারবেন। পদোন্নতি ও প্রাইজ পোস্টিং এ এই পদক গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়। এসপি এ.বি.এম মাসুদ হোসেন বিপিএম কক্সবাজারে যোগদানের মাত্র ১৫ মাসের মধ্যে ২ টি জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পদক প্রাপ্তি ও ৪ টি আইজিপি পদক প্রাপ্তির সৌভাগ্য অর্জন করলেন।

অনুষ্ঠানে অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ১৪ পুলিশ সদস্যকে বিপিএম ও ২০ জনকে পিপিএম পদক দেয়া হয়। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ২৮ পুলিশ সদস্যকে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা’ এবং ৫৬ জনকে ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা’ পড়িয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।

কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন সিবিএন-কে জানান-এ বিশাল অর্জন শুধুমাত্র জেলা পুলিশ বিভাগের জন্য নয়, পুরো কক্সবাজার জেলাবাসীর জন্য এটা বিরাট সম্মান ও মর্যাদার বিষয়। কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) রেজওয়ান আহমেদ সিবিএন-কে বলেন, এ বিরল সম্মান একদিকে, কক্সবাজার জেলা পুলিশের নিয়মতান্ত্রিক কর্মে উৎসাহ ও গতিশীলতা বাড়াবে এবং অন্যদিকে, পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নিঃসন্দেহে অনেক বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি সিবিএন এর কাছে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.বি.এম মাসুদ হোসেন বিপিএম (বার) পর পর দ্বিতীয়বারের মতো এই দুর্লভ ও মর্যাদাপূর্ণ পদক পাওয়ায় ঢাকা থেকে রোববার ৫ জানুয়ারি সিবিএন-কে তাঁর প্রতিক্রিয়ায় মহান আল্লাহতায়লার কাছে অশেষ শোকরিয়া জ্ঞাপন করে বলেন- তাঁকে আবারো এ বিরল পদক প্রদান করায় কক্সবাজার জেলা পুলিশের অসীম ত্যাগ, সাহস ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মের যথার্থ মূল্যায়ন করা হয়েছে। এতে কক্সবাজার জেলা পুলিশের সকল সদস্যের কাজের গতি, সাহস ও উৎসাহ আরো বাড়বে বলে এসপি এ.বি.এম মাসুদ হোসেন বিপিএম (বার) সিবিএন-এর কাছে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন-এই রাষ্ট্রীয় পুরস্কার অর্জন শুধুমাত্র তাঁর একার কৃতিত্ব নয়, তাঁর মতে-এই কৃতিত্ব কক্সবাজার জেলা পুলিশের সকল সদস্যের। কারণ, জেলা পুলিশের সকল সদস্য ও কক্সবাজারের নাগরিকবৃন্দ জেলার আইনশৃঙ্খলা সুরক্ষায় সহযোগিতা নাকরলে এ বিরল অর্জন হয়ত কখনো সম্ভব হতোনা। এসপি এ.বি.এম মাসুদ হোসেন বিপিএম (বার) সিবিএন-কে আরো বলেন, এ বিশাল প্রাপ্তি তাঁর ও তাঁর বাহিনীর পেশাগত দায়িত্ব, কর্তব্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। দেশ ও মানুষের কাছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ ঋনী হয়েছে। আবারো বিপিএম (সেবা) পদক পাওয়ায় কক্সবাজার জেলা পুলিশ ও জেলাবাসীর মর্যাদা আরো বৃদ্ধি হয়েছে, জেল পুলিশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হয়েছে, পুলিশের প্রতি গণমানুষের আস্থা ও বিশ্বাস বেড়েছে। তিনি বলেন-পর পর ২ বছর সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক পাওয়া নিঃসন্দেহে গৌরবের বিষয় ও জেলা পুলিশের জন্য প্রশংসনীয় একটি রেকর্ড। যা জেলা পুলিশের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ ও উর্বর করেছে। তিনি বলেন-কৃতকর্মের মূল্যায়ন হওয়ায় কর্মস্থলে সাহসিকতা ও অদম্য মনোবল নিয়ে কাজ করতে আরো স্পৃহা ও উদ্যোম বেড়ে যাবে। এ প্রাপ্তি পুলিশকে আরো জনবান্ধব ও সেবামুখী করে তুলবে। দাপ্তরিক কাজের গতি ও সেবার মান বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরো বলেন-এ পুরস্কার আমার জীনের একটা মাইলফলক। ঝুঁকি ও ত্যাগের স্বীকৃতি পেলাম এবং অপরাধ দমনে অদম্য মনোভাবের সৃষ্টি হয়েছে। এসপি এ.বি.এম মাসুদ হোসেন বিপিএম (বার) তাঁর কর্মজীবনের আরো সাফল্যের জন্য সবার কাছে দোয়া, আশির্বাদ ও সহযোগিতা চেয়েছেন। এই অপরিসীম অর্জনে কক্সবাজার জেলা পুলিশের সকল সদস্য অধম্য আত্মবিশ্বাস, প্রেরণা ও প্রত্যয়ে সমৃদ্ধ হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পুলিশ সুপার এ.বি.এম মাসুদ হোসেন বিপিএম তাঁকে এই গৌরবময় সম্মাননা প্রদানের জন্য মনোনীত করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন এমপি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বিপিএম (বার), বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) ড. মঈনুর রহমান চৌধুরী (বিপিএম-বার) চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক (বিপিএম বার-পিপিএম), পুলিশ সদর দপ্তরের সকল উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।


📕সংবাদটি লাইক এবং শেয়ার করুন।

শেয়ার করুন !

Daily Vorer Teknaf

সুন্দর আগামী বিনিমার্ণে একটি অঙ্গীকারবদ্ধ সংবাদ মাধ্যম। দৈনিক ভোরের টেকনাফ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *