বৃক্ষ প্রেম ও প্রফেসর অজিত কুমার শীল

অধ্যাপক সন্তোষ কুমার শীল::

প্রতিদিনই বাড়ছে মানুষ, বাড়ছে না বন জঙ্গল
যতই বেশি গাছ লাগাবো, ততই হবে মঙ্গল।
অসুখ হলে ঔষধ যোগায়, গাছই যোগায় খাদ্য
বৃক্ষ বিহীন বিশ্বটাতে বাস করা দুঃ সাধ্য।
গাছ আছে তাই বেঁচে আছে সকল জীবজন্তু
গাছ থেকে পায় কাপড় বোনার হরেক রকম তন্তু।
গাছই কেবল রক্ষা করে পরিবেশের সাম্য
একটি করে গাছ লাগাবো এটাই সবার কাম্য।

কবিতার মুল প্রতিপাদ্য বিষয়কে বুকে ধারণ করে ছায়াময় ও মায়াময় পরিবেশে জীবন যাপনের অভিপ্রায় নিয়ে অনবরত গাছ লাগিয়ে সুশীতল শ্যামল পূণ্য ভূমি সৃষ্টি করে চলেছেন প্রফেসর অজিত কান্তি শীল। চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন সরকারি কলেজে প্রাণিবিদ্যার শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করে সর্বশেষ চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অবসর গ্রহন করেন। এরপর চার বছর যাবত চট্টগ্রামের একটি প্রাইভেট কলেজ CSBH
এ অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন শেষে বর্তমানে চট্টগ্রাম জজ কোর্টে ওকালতি পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।
বায়োলজির ছাত্র হিসেবে ছাত্র জীবন থেকেই তাঁর গাছের প্রতি ছিলো অগাধ ভালোবাসা। সেই থেকে এই পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে তিনি গাছের পরিচর্যা করে চলেছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র থাকা কালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন ও তাঁর বৃক্ষ প্রেমের স্বাক্ষর ছিলো। নিজের চাষ করা সবজি দিয়েই তিনি ছাত্রাবাসে বসে খিচুড়ি পাকিয়ে সকালের নাস্তা সারতেন।
এ পর্যন্ত তিনি হাজারেরও বেশি গাছ লাগিয়েছেন। তার মধ্যে রয়েছে বনজ, ফলজ, ঔষধি এবং কাষ্ঠল গাছ।
সহজ সরল এই মানুষটির জন্ম ১৯৫৪ ইং সালের ১০ নভেম্বর। শৈশব কেটেছে বোয়ালখালী থানার কানুনগো পাড়া গ্রামে। কানুনগো পাড়া কাশীমোহন প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাইমারী শিক্ষা শেষ করে
কানুনগো পাড়া ড. বিভূতি ভূষণ উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক সমাপনী পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হয়েছিলেন এবং কানুনগো পাড়া স্যার আশুতোষ মহাবিদ্যালয় থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে ১৯৭৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণিবিদ্যা বিভাগে অনার্সের ছাত্র হিসেবে ভর্তি হন। ঐ বিভাগ থেকে অনার্স সহ এম, এস সি পাশ করে যথারীতি চাকুরী জীবনে প্রবেশ করেন।কলেজের শিক্ষকতা দিয়েই তিনি প্রথমে চাকরি জীবন শুরু করেন এবং শেষ পর্যন্ত এ পেশাতেই নিয়োজিত থেকেছেন। শিক্ষকতার মহান পেশায় তাঁর সুনাম ছিলো অবিস্মরণীয়। সততা, কর্মনিষ্ঠতা,একাগ্রতা তাঁকে ক্রমাগত উর্ধ্বগামী করেছে। তিনি পেয়েছেন ধাপে ধাপে সরকারি পদন্নোতি।
অভাব অনটনের সংসারে বেড়ে ঔঠা এ মানুষটি মুক্তিযুদ্ধকে প্রত্যক্ষ করেছেন অতি কাছ থেকেই। তখন তিনি ছিলেন এস, এস, সি পরীক্ষার্থী। তাঁর পরীক্ষার মাত্র পঁচিশ দিন বাকি। এর মধ্যেই শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ। প্রাণ বাঁচা তে তিনি তার বাবার সাথে ছুটে যান করলডেঙ্গা পাহাড়ে। তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছিলো পাঞ্জাবিরা। পান্জাবি চলে যাওয়ার পর সেই পোড়া বাড়িতেই ছিল তাদের বসবাস।
ঐ বছর এস, এস, সি পরীক্ষা দুই বার সংগঠিত হয়েছিল। একবার পাকিস্তান আমলে আরেকবার বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর। অজিত বাবু বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর এস,এস,সি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হন। একজন মেধাবী ছাত্র হিসেবে বরাবরই তার স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁর সৃজনশীলতা, প্রজ্ঞা,বন্ধুভাবাপন্ন উপকারী মনোভাব তাঁর বন্ধু বান্ধব দের মাঝে বেশ সমাদৃত।
সাত ভাই বোনদের মধ্যে তিনি হচ্ছেন মা বাবার ষষ্ঠতম সন্তান। শিক্ষিত নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ প্রফেসর অজিত কান্তি শীল এর অন্যান্য ভাই বোনেরাও শিক্ষা দীক্ষায় বেশ অগ্রসর। পারিবারিক প্রীতি ভালোবাসায় আবদ্ধ থেকে সৌন্দর্য মণ্ডিত সৌহার্দ্যপূর্ণ জীবন যাপনে তিনি বেশ উৎসাহ বোধ করেন।
চিন্তা চেতনা, মেধা ও মননে তিনি একজন পরিপূর্ণ মানুষ। এই বৃক্ষ প্রেমিকের দীর্ঘায়ু কামনা করি। সুস্থ সবল দেহ মন নিয়ে তিনি যেন অযুত বছর বেঁচে থাকেন সেই প্রত্যাশায় রাখছি।

💝সংবাদটি লাইক এবং শেয়ার করুন…

শেয়ার করুন !

Daily Vorer Teknaf

সুন্দর আগামী বিনিমার্ণে একটি অঙ্গীকারবদ্ধ সংবাদ মাধ্যম। দৈনিক ভোরের টেকনাফ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *