পুলিশী কর্মকাণ্ডের আড়ালে প্রদীপ-লিয়াকতের অপরাধনামা

 

From dbcnews.tv
টেকনাফে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর রাশেদ সিনহা’র মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান আসামি বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ লিয়াকত আলী ও আরেক আসামি টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশের প্রতাপ ছিলো পুরো চট্টগ্রাম বিভাগেই।

১৯৯৬ সালে পুলিশে যোগ দেয়ার পর টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ অধিকাংশ সময় অতিবাহিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ও কক্সবাজার জেলায়। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর হয়েছেন বরখাস্ত, প্রত্যাহার ও বদলি। কিন্তু এতকিছুর পরেও ক্ষমতাধর প্রদীপের টিকিটাও ছুঁতে পারেনি কেউ। বাগিয়ে নিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন থানার ওসির চেয়ার। এর সুবাদে এসব এলাকায় গেড়ে বসেছেন অপরাধের শিকড়।
চট্টগ্রামে বিভিন্ন থানায় ওসি থাকার সময় নানা অপকর্মের দায়ে সমালোচিত ছিলেন ওসি প্রদীপ। ২০১৫ সালে সুগন্ধা, মুরাদপুর ও পাথরঘাটায় হিন্দু বিধবা মহিলার জমি দখল, তেলবাহী লরি আটকে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অর্থ আদায় ও পাঁচলাইশ থানা এলাকায় নিজের বোনের জমি দখলের অভিযোগে বরখাস্ত হন প্রদীপ। এরপর উখিয়া, মহেশখালী থানার ওসি হয়ে পরে যোগ দেন টেকনাফ থানায়।

টেকনাফে মাদক নির্মূলের ঘোষণা দিয়ে বেশিরভাগ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় আসামি করেছেন মৃত ব্যক্তির স্বজনদের। তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় রিপোর্ট করায় দৈনিক কক্সবাজার বাণীর সম্পাদক ফরিদুল মোস্তাফাকে মাদক দিয়ে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়। প্রদীপের নির্যাতনে প্রায় অন্ধ ওই সাংবাদিক এখন কারাগারে।
পুলিশের গুলিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিহতের ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ লিয়াকত আলী ২০১৪ সালে ছিলেন সিএমপির গোয়েন্দা বিভাগে। তার দেয়া মিথ্যা মামলায় সর্বস্বান্ত হয়েছেন এক ব্যবসায়ীও।
প্রদীপের মতো বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তাকে রোহিঙ্গা, মাদক ও মানব পাচারসহ জাতীয়-আন্তর্জাতিক ইস্যুতে টেকনাফ থানায় দায়িত্বভার দেওয়ায় পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশিষ্টজনেরা।

শেয়ার করুন !

Daily Vorer Teknaf

সুন্দর আগামী বাস্তবায়নে এটি একটি অঙ্গীকারবদ্ধ অনলাইন সংবাদ মাধ্যম। 'দৈনিক ভোরের টেকনাফ' সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য প্রিয় পাঠকদের প্রতি অনুরোধ করা হল। ধন্যবাদ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *