রাণীশংকৈলে স্ত্রীর শরীরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ

আবদুল্লাহ আল নোমান, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁ) :: 

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে যৌতুকের টাকার জন্য মারপিট করে স্ত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।বর্তমানে গুরুতর আহত হয়ে ঐ নারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।

থানায় দেওয়া অভিযোগ ও নির্যাতিত নারীর সাথে কথা বলে জানা যায়, বছর তিনেক আগে পৌরশহরের বন্দর পলাশ মার্কেট এলাকা সংলগ্ন বাসিন্দা নিরেন চন্দ দাসের ছেলে মিঠুন চন্দ্র দাসের(২৪) সাথে একই এলাকার প্রতিবেশী গোপাল চন্দ্র দাসের মেয়ে শ্রীমতি মনি দাসের(২১) বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ছেলে পক্ষের চাহিদা অনুযায়ী ছয় লাখ টাকাসহ দুই লাখ টাকার স্বর্ণ খাট আলমারী টেলিভিশন উপহার হিসেবে ছেলে পক্ষকে দেন।

বিয়ে হওয়ার মাস তিনেক পর থেকে আরো যৌতুকের টাকার জন্য মেয়েটিকে নানাভাবে অন্যায় অত্যাচার করে স্বামীসহ শুশুর বাড়ির লোকজন। এছাড়াও মেয়েটি পড়াশুনা চলাকালীন সময়ে বিয়ে হলে পরবর্তীতে পড়াশুনা করতেও বাধা হয়ে দাড়ায় তার স্বামী। এমন অত্যাচার সইতে না পেরে মেয়েটি তার বাবার বাড়িতে আরো যৌতুকের টাকার জন্য গিয়ে উঠে।

গত ২৭ আগষ্ট পুনরায় স্বামীর বাড়িতে গেলে তার স্বামী তার কাছে যৌতুক বাবদ আরো ১ লাখ টাকা নিয়ে এসেছে কিনা জানতে চায়। স্ত্রী উত্তরে টাকা নিয়ে আসেনি জানালে। তার স্বামীসহ শুশুর-শাশুড়ি, দেবর মিলে তাকে বেদড়ক পিটিয়ে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় তার আত্নচিৎকারের প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এ বিষয়ে মনিদাসের স্বামী মিঠুন দাসের সাথে কথা বলতে তার মুঠোফোনে কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. ফিরোজ আলম বলেন, মেয়েটির মাথাসহ শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের দাগ রয়েছে। সে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

শুক্রবার অফিসার ইনর্চাজ এস এম জাহিদ ইকবাল মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন !

Daily Vorer Teknaf

সুন্দর আগামী বাস্তবায়নে এটি একটি অঙ্গীকারবদ্ধ অনলাইন সংবাদ মাধ্যম। 'দৈনিক ভোরের টেকনাফ' সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য প্রিয় পাঠকদের প্রতি অনুরোধ করা হল। ধন্যবাদ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *