ধর্ষণ রুখতে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি সমাজ থেকে এমন ঘটনার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘ধর্ষণের মতো ঘটনাগুলো প্রতিহত করতে আমাদের কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সেই সঙ্গে সত্যিকারের জনসচেতনতা তৈরি করাও দরকার।’

বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নবীন ক্যাডার সার্ভিস অফিসারদের জন্য ৭০তম ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় এসব কথা বলেন তিনি।

অংশগ্রহণকারীরা সাভারের বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) থেকে এবং সাত বিভাগীয় কমিশনাররা তাদের কার্যালয় থেকে সংযুক্ত ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ইদানীং ব্যাপকভাবে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। যত বেশি প্রচার হয় এর প্রাদুর্ভাব তত বেশি বাড়ে। ইতোমধ্যেই আমরা একটা অধ্যাদেশ জারি করে দিয়েছি আইন সংশোধন করে। কাজেই এখানে এ ধরনের ঘটনা রোধ করতে ব্যাপক ব্যবস্থা নিতে হবে। মানুষের মাঝে জনসচেতনতাও সৃষ্টি করা দরকার।

অনুষ্ঠানে ধর্ষণের বিষয়ে কথা বলার পাশাপাশি করোনা সংকটকালেও সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা। এছাড়া সনদ নেয়া নবীন ক্যাডার সার্ভিস অফিসারদের অভিনন্দন জানান।

করোনা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাস এমন একটা সমস্যা যেটা শুধু সারা বাংলাদেশ না, সারা বিশ্বটাকেই যেন স্থবির করে দিয়েছে। এর মাঝেও বাংলাদেশ এমন একটি দেশ, আমরা যদিও ভূখণ্ডের দিক থেকে খুবই ছোট জনসংখ্যার দিক থেকে বড়। আমাদের সমস্যা অনেক বেশি কিন্তু তার মাঝেও আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, আমাদের প্রশাসন থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক সামাজিক সব ধরনের অবস্থানগুলো যেন অব্যাহত থাকে, আমাদের মানুষ যেন সেবা পায়, মানুষের যেন ভোগান্তি কম হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

জাতির পিতা এ দেশের শোষিত বঞ্চিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য এবং আমরা যে বাঙালি জাতি, আমাদের একটা স্বকীয়তা আছে আমরা পারি এবং এই দেশের দরিদ্র ক্ষুধার্ত যে মানুষগুলো যারা সবসময় বঞ্চনার শিকার হয়েছে, তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যই কিন্তু তিনি তার নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন। কাজেই কর্তব্য এখন সকলের। এই দেশটাকে আমাদের গড়ে তুলতে হবে।’-যোগ করেন সরকারপ্রধান।

দেশে ফিরে আসার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তখন থেকে একটা প্রচেষ্টা ছিল গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা, গণতন্ত্রের সুফল যেন জনগণ যেন পায়, স্বাধীনতার সুফল যেন প্রত্যেক মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছায় এবং বাংলাদেশ সারাবিশ্বে যেন একটা মর্যাদা পায়। কারণ যখন আমরা বিদেশে রিফিউজি হিসাবে ছিলাম, মানুষের কাছে শুনতাম বা তার পরেও যখন গেছি, বাংলাদেশ শুনলেই মানুষ মনে করত, এটা একটা ঝড় জলোচ্ছ্বাস ঘূর্ণিঝড় দুর্ভিক্ষ এবং দরিদ্র্যের দেশ। যে দেশ শুধু ভিক্ষার ওপর বাঁচে। মানুষের করুণার ওপর বাঁচে। প্রতিটি ক্ষেত্রে যাকে সাহায্য চাইতে হয়। বাজেট তৈরি থেকে শুরু করে প্রতিটি কাজে অন্যের কাছে হাত পাততে হয়।’

ছোট বেলা আমি নিজে দেখেছি, আমার বাবা কিভাবে দেশের জন্য কাজ করেন। স্কুলজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছি। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে আমার মাসহ বন্দি ছিলাম। তারপর আমরা বিজয় অর্জন করেছি সেই বিজয়ী জাতি হিসাবে সেই জাতির একজন সদস্য হিসাবে এটা আমাদের খুব পীড়া দিত। সেজন্য একটা লক্ষ্য ছিল যদি সরকার গঠন করতে পারি, জনগণের সেবা করাটাই হবে সবথেকে বড় লক্ষ্য। বাংলাদেশের সম্মানটা ফিরিয়ে আনা, বিশ্বের কাছে মাথা উঁচু করে আমরা চলবো। কারণ এটা আমরা চাইনি কখনো, যেখানেই যাব শুনতে হবে ও বাংলাদেশ, বাংলাদেশে তো শুধু এই হয়, ঘূর্ণিঝড় হয়, তোমাদের দেশে বন্যা হয়, তোমাদের দেশে খরা হয়, তোমাদের দেশের মানুষ দরিদ্র্য।

এমনকি আমার নিজের চোখে দেখা, কখনো কখনো কেউ কোনো কিছু খাবার কিনে রাস্তায় ছড়িয়ে দিত, ছোট্ট শিশুরা ছুটে খেত সেই খাবার খেতে, সেই ছবি তুলত। এবং সেটা আন্তর্জাতিকভাবে সেটা প্রচার করা হত। বাংলাদেশের এই দুরাবস্থা’-বলেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যতটুকু আমরা যা করতে পারছি, সব কিছুর ভিত্তিটা কিন্তু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান করে গেছেন। আমাদের নিজস্ব প্রশাসন হবে, এবং সেই প্রশাসনের কার্যক্রম চলবে এটাও কিন্তু তিনি নিজেই সৃষ্টি করে গেছেন। তার হাতেই গড়া প্রতিটি ক্ষেত্র। কারণ আমি যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেই তখনি আমরা যে কাজগুলি করতে যাই প্রত্যেকক্ষেত্রে আমরা দেখেছি, সব ক্ষেত্রেই তিনি কোনো কিছু বাদ দিয়ে যাননি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য। সবকিছুর ভিত্তিটা তিনি তৈরি করে গেছেন। তারি পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমরা কিন্তু পদক্ষেপ নিচ্ছি।

শেয়ার করুন !

Daily Vorer Teknaf

সুন্দর আগামী বিনিমার্ণ বাস্তবায়নে এটি একটি অঙ্গীকারবদ্ধ অনলাইন সংবাদ মাধ্যম। 'দৈনিক ভোরের টেকনাফ' সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য প্রিয় পাঠকদের প্রতি অনুরোধ করা হল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *