কক্সবাজার জেলা জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি::
টেকনাফ উপজেলা জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে ফেরদৌস আলম হেলাল মুন্সিকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে জিয়াবুল হক নির্বাচিত হলেও  অনির্বাচিতদের দিয়ে পকেট কমিটি ঘোষনা দেওয়ায় বিতর্কের মুখে পড়েছে কক্সবাজার জেলা  জাতীয় পার্টি আহবায়ক কমিটি। এ কমিটি অবৈধ ঘোষণা করে ৭ ও ৮ নভেম্বর) ফেইসবুক ও গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন গত ৫ নভেম্বর টেকনাফ উপজেলা দ্বি বার্ষিকী সম্মেলন নির্বাচিত সভাপতি পদে ফেরদৌস আলম হেলাল মুন্সি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত সাবেক কেন্দ্রীয় জাতীয় ছাত্র সমাজের নেতা জিয়াবুল হক।
জানা যায়, গত ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার টেকনাফ উপজেলা ও পৌরসভা জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন হোটেল নিউ গ্রীন গার্ডেনের হল রুমে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত  সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, কক্সবাজার জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক মেহেরুজ্জামান, প্রধান অতিথি হিসাবে  জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব মুফিজুর রহমান। এবং সেই সম্মেলনে টেকনাফ উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের কাউন্সিলর ও ডেলি গেইটের উপস্থিতিতে সভাপতি পদে ৩ জন প্রার্থী  ফেরদৌস আলম হেলাল মুন্সি, মো. ইসলাম, মাষ্টার মনজুর, সাধারণ সম্পাদক পদে ৮ জন প্রার্থী  জিয়াবুল হক, নুর মোহাম্মদ, মাহবুবুর রহমান, ওয়াজেদ, উসমান, শওকত আলী, হেলাল। সভাপতি পদে মো. ইসলাম ফেরদৌস আলম হেলাল মুন্সিকে সমর্থন জানিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে। পরে জেলা আহবায়ক, সদস্য সচিব সভাপতি পদে হেলাল মুন্সিকে সভাপতি নির্বাচিত ঘোষনা করে। পরে সাধারণ সম্পাদক পদে ৮ জনের প্রার্থীর মধ্যে ৫জন প্রার্থী  জিয়াবুল হক কে সাধারণ সম্পাদক পদে সমর্থন করলে সাধারণ সম্পাদক পদে জিয়াবুল হক কে নির্বাচিত ঘোষনা করেন জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব মুফিজুর রহমান। সভাপতি দাবিদার মাষ্টার মনজুর টেকনাফ উপজেলা জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের অপছন্দনীয় ব্যক্তি।সভাপতি পদে নির্বাচিত ফেরদৌস আলম হেলালকে সাধারণ সম্পাদক পদে বসিয়ে নতুন করে বিতর্কিত জন্ম দেন জেলা জাতীয় পার্টি। টেকনাফ উপজেলা জাতীয় পার্টির কমিটি ঘোষনার সাথে সাথে নেতাকর্মীরা অনিয়ম, বাণিজ্য ও পকেট কমিটি বয়কট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও গণমাধ্যমে বিবৃতি দেন সভাপতি নির্বাচিত ফেরদৌস আলম হেলাল মুন্সি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত সাবেক জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় নেতা জিয়াবুল হক।
এদিকে টেকনাফ উপজেলা জাতীয় পার্টির সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত জিয়াবুল হক নতুন কমিটি কে অবৈধ ও বাণিজ্য, পকেট কমিটি উল্লেখ করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহম্মদ বাবলু এবং চট্রগ্রাম বিভাগীয় অতিরিক্ত মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূইয়ার কাছে বিচার চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠান। এবং সভাপতি পদে নির্বাচিত ফেরদৌস আলম হেলাল মুন্সিও নতুন কমিটি ঘোষনার সাথে সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনিও বিবৃতি পাঠান।
আবার অনেকেও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত জিয়াবুল হকের পক্ষে হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিবৃতি পাঠান এবং জাতীয় পার্টি ত্যাগ করারও হুমকি দেন নেতাকর্মীরা।
যে কোনো সময় সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত জিয়াবুল হকের সমর্থকরা পকেট, বাণিজ্য কমিটিকে ভয়কট করে পরাজিত প্রার্থী মনজুর কে প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতি ফেরদৌস আলম হেলাল মুন্সি ও সাধারণ সম্পাদক পদে জিয়াবুল হক সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচিত। কিন্তু এরই মধ্যে নিয়মনীতি ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থী অবস্থান নিয়েছে জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক মেহেরুজ্জামান ও সদস্য সচিব মুফিজুর রহমান ৭ নভেম্বর রবিবার একটি ফেসবুকের মাধ্যমে পরাজিত প্রার্থী মনজুর কে সভাপতি ও সভাপতি পদে নির্বাচিত ফেরদৌস আলম হেলাল মুন্সিকে সাধারণ সম্পাদক এবং সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত জিয়াবুল হক কে সাংগঠনিক সম্পাদক করে একটি কমিটি ঘোষনা দেন। এতে কমিটি দেওয়ার সাথে সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উক্ত কমিটিকে প্রতিহত ও প্রত্যাকান করেছে। নতুন করে টেকনাফ উপজেলা জাতীয় পার্টিকে বিতর্কিত করতে জেলা জাতীয় পার্টি আহবায়ক ও সদস্য সচিব নতুন করে আধিপত্য বিস্তার করতে বিতর্কিত, অচল, পকেট ও বাণিজ্যের মাধ্যমে জোর করে কমিটি দিয়েছে বলে নেতাকর্মীদের অভিযোগ।
টেকনাফ উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের জাতীয় পার্টির নেতারা জানান, সম্প্রতি জেলা জাতীয় পার্টি মিয়াদ শেষ হলেও করোনাভাইরাসের কারনে নতুন করে তিন মাসের জন্য মিয়াদ বাড়িয়ে দিয়েছে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও মহাসচিব। এতে টেকনাফ উপজেলা জাতীয় পার্টির সম্মেলনের মাধ্যমে সভাপতি ও সম্পাদক পদে নির্বাচিত নেতাদের বাদ ও অমূল্যায়ন করে মোটা অঙ্কের বাণিজ্যের মাধ্যমে ভুঁইফোঁড়দের স্থান দেওয়া হয়। এ কারণে কমিটি ঘোষণার পর পরই তোপের মুখে পড়েন জেলা আহবায়ক মেহেরুজ্জামান ও সদস্য সচিব মুফিজুর রহমান। ত্যাগীদের তুপের মুখে টেকনাফ পৌরসভায় আসাও বন্ধ হয়ে যায়। ওই সংকট কাটিয়ে উঠতে টেকনাফ উপজেলা জাতীয় পার্টিকে কব্জায় নেওয়ার সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়ার পরও তাদের কিছু অনুগত পরাজিত ব্যক্তিদের দিয়ে টেকনাফ উপজেলা জাতীয় পার্টির একটি হাস্যকর কমিটি ঘোষণা করেছেন।
ওই কমিটি ঘোষণার পরপরই টেকনাফ উপজেলা জাতীয় পার্টির সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত ফেরদৌস আলম হেলাল মুন্সি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত জিয়াবুল হক তীব্র নিন্দা জানিয়ে জানান, বিতর্কিত জেলা কমিটির অনুমোদন দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূল থেকে শুরু করে জেলার সব নেতা-কর্মী এ কমিটি বাতিলের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এ কারণেই হীনমন্যতার আশ্রয় নিয়ে এখতিয়ার বহির্ভূত ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থী অবস্থান নিয়ে টেকনাফ উপজেলা জাতীয় পার্টির একটি বিতর্কিত কমিটি ঘোষণা করেছে। যা সম্পূর্ণ অবৈধ।
কক্সবাজার জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক মেহেরুজ্জামানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমারা টেকনাফে সম্মেলনে কোন কমিটি দেয় নি বলে মোবাইল কেটে দেয়। আবার কল করা হলে টেকনাফ পৌরসভার সাঃ সম্পাদক শাহাজাহান মোবাইল রিসিভ করে তিনি বলেন জেলা আহবায়ক ব্যস্ত রয়েছেন বলে ফোন কেটে দেয়।
(সূত্র: www.amader teknaf.com)

শেয়ার করুন !

Daily Vorer Teknaf

সুন্দর আগামী বাস্তবায়নে এটি একটি অঙ্গীকারবদ্ধ অনলাইন সংবাদ মাধ্যম। 'দৈনিক ভোরের টেকনাফ' সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য প্রিয় পাঠকদের প্রতি অনুরোধ করা হল। ধন্যবাদ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *